জাতীয়

সংবাদকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু আটক,আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  প্রতিনিধি 2 August 2026 , 5:07:21 প্রিন্ট সংস্করণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাভারে এক সংবাদকর্মী ও তার সহকারীর ওপর হামলার অভিযোগে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুকে পুলিশ আটক করেছে। এ ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

জানা যায়, সৌদি আরবের মরুভূমিতে আটকে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁচার আকুতি জানিয়ে আলোচনায় আসেন মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু। সে সময় তিনি নিজেকে দালালের প্রতারণার শিকার বলে দাবি করেন এবং দেশে ফিরে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ্যে বলেন।

 

পরবর্তীতে দেশে ফিরে সাভারের হেয়ায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হাজী আশরাফ শপিং কমপ্লেক্সে ‘তামছী ওভারসিজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালু করেন। অভিযোগ রয়েছে, বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স নম্বর ছাড়াই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। বিদেশগামীদের নিজ প্রতিষ্ঠানে এনে অন্য একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো বলেও অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া, তার মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে প্রতারণার শিকার হওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে ভুক্তভোগীরা তুলেছেন।

 

এদিকে, বাংলাদেশ ও কুয়েত সরকারের মধ্যে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর কোনো দ্বিপক্ষীয় চুক্তি না থাকা সত্ত্বেও কুয়েতে ভিসা রয়েছে এবং কর্মী পাঠানো হচ্ছে—এমন বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সাতকাহন নিউজ ডটকমও এ বিষয়ে একাধিক সংবাদ ও ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

 

সাতকাহন নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক সাইফুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সংবাদ প্রকাশের পর তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২০টি কনটেন্ট ব্লক হয়ে যায়। বিষয়টি মঞ্জুর টিমের সাইবার আক্রমণের ফল বলে সন্দেহ করে গত ৩১ জুলাই হাতিরঝিল থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২০০৭) করেন।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, পরে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার অফিস থেকে অফিসে এসে কথা বলার জন্য বলা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ১ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করে দুই পুলিশ সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে সাইফুল ইসলাম ও তার সহকারী নূর নবী হোসেন মঞ্জুর অফিসে যান। সেখানে গিয়ে অফিস বন্ধ পাওয়ায় ফোনে কথা হলে প্রথমে মঞ্জু অশালীন ভাষায় গালাগাল ও হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে তিনি আবার ফোন করে বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

 

পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি বিবেচনায় পুলিশ ফাঁড়িতে বসে আলোচনার পরামর্শ দিলে উভয় পক্ষ সেখানে উপস্থিত হন। অভিযোগ রয়েছে, কিছুক্ষণ পর মঞ্জুর প্রতিনিধি পরিচয়ে মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি ১০-১২ জনকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন এবং সাইফুল ইসলাম ও তার সহকারীকে ঘিরে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।

 

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক, দৈনিক মানবকণ্ঠের সাভার উপজেলা প্রতিনিধি ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি পুলিশ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসারের কক্ষে বসে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু সেখানে এসে সাইফুল ইসলামের সহকারীকে মারধর করেন এবং উপস্থিতদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। বাধা দিতে গেলে সাংবাদিক ওমর ফারুককেও গালিগালাজ করে মারতে উদ্যত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তাকে আটক করে সাভার মডেল থানায় নিয়ে যায়। পরে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনেন এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে জিডি (জিডি নং-৮৫) গ্রহণ করেন। বর্তমানে মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

 

তবে এ ঘটনায় মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

আরও খবর

                   

জনপ্রিয় সংবাদ