প্রতিনিধি 25 August 2026 , 8:23:49 প্রিন্ট সংস্করণ
মাদারীপুরের শিবচরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় নিখোঁজ এক বছর বয়সী শিশু আবিরের মরদেহ ছয় দিন পর আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আটক ফারুক জিজ্ঞাসাবাদে শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং তার শিশুসন্তান আবিরকেও হত্যার পর নদে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের চর-কামারকান্দি এলাকায় আড়িয়াল খাঁ নদে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিশুর নাম আবির। তার বাবা শাহাবুদ্দিন হাওলাদার এবং মা শম্পা খাতুন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ আগস্ট মাদবরচর ইউনিয়নের বাখেরকান্দি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে শম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে তার পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও পরে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পরিচয় শনাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় শম্পার বাবা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তে নেমে ২১ আগস্ট সকালে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮-এর যৌথ অভিযানে ফারুককে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ১৮ আগস্ট শম্পা খাতুনকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে সে শিশু আবিরকেও হত্যার পর আড়িয়াল খাঁ সেতু থেকে নদে ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়েছে বলে পুলিশ দাবি করেছে।
এরপর নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আড়িয়াল খাঁ নদে তল্লাশি চালাতে থাকেন। অবশেষে ঘটনার ছয় দিন পর নদে ভাসমান অবস্থায় আবিরের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।
মা ও শিশুকে হত্যার ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ফারুকের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে স্থানীয়দের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনও হয়েছে। দ্রুত বিচার শেষ করে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।











